লেবু জাতীয় ফসলের আঠা ঝরা রোগ ও প্রতিকার

লেবুর আঠা ঝরা রোগ

রোগের কারণঃ

আঠা ঝরা রোগ বা গামোসিস রোগ ফাইটোফথোরা পালমিভোরা (Phytophthora palmivora) ফাইটোফথোরা সাইট্রোফথোরা (Phytophthoracitrophthora) ও ফাইটোফথোরা প্যারাসাইটিকা (Phytophthora parsitica)নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

আঠা ঝরা রোগ বা গামোসিস রোগের ছত্রাক মাটিতে বেঁচে থাকে এবং গাছের গোড়ায় আক্রমণ করে। ছত্রাক আক্রান্ত অংশে জুওস্পোর উৎপন্ন করে। এ সমস্ত জুওস্পোর সেচের পানি দ্বারা এক গাছ থেকে অন্য গাছে বিস্তার লাভ করে। যদি গাছের কান্ড বেশী দিন পানির সংস্পর্শে থাকে তবে এ রোগ হতে দেখা যায়।

রোগের লক্ষণ:

আঠা ঝরা রোগ
আঠা ঝরা বা গামোসিস রোগ
  • প্রথমে কান্ডের গোড়ার দিকে বড় বড় পানি ভেজা দাগ পড়ে। দাগ কান্ডের উপরের ও নীচের দিকে বিস্তৃত হয়।ক্রমে দাগগুলি গাঢ় বাদামী রংগের হয়ে কান্ডের বাকলে লম্বালম্বি ফাটল সৃষ্টি করে। আক্রান্ত ফাটল থেকে আঠা ঝরতে থাকে।
  • রোগ আরও বিস্তৃত হলে উপরের ডালপালায় আঠা জমতে দেখা যায়।
  • আক্রান্ত গাছের ফল আকারে ছোট হয়।
    আক্রান্ত গাছের পাতা ধীরে ধীরে হলুদ হয়ে যায় ও গাছ মারা যায়।

    গামোসিস রোগ
    আঠা ঝরা বা গামোসিস রোগ

সাবধানতাঃ

১। ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন । ২। পরিস্কার করার পর একটি ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক দ্বারা পুরো গাছ ভালভাবে স্প্রে করুন । ৩। নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করুন।

রোগের প্রতিকার:

  • নীরোগ বীজতলার চারা ব্যবহার করতে হবে। মাটি উঁচু ঢিবি করে গাছ লাগাতে হবে যেন পানি না দাঁড়ায়।জোর কলম পদ্ধতিতে চারা তৈরী করে লাগাতে হবে।
    গাছের মুল ও গোড়ায় যেন কোন ক্ষত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • গাছের গোড়া থেকে ১ মিটার দূরত্বে একটি গোলাকার গর্ত তৈরী করে তাতে এক সপ্তাহ পর পর কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
  • আক্রান্ত অংশ ভালভাবে চেঁছে ফেলে সেই স্থানে বর্দোপেষ্ট (প্রতি লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম তুঁতে ও ১০০ গ্রাম চুন) লাগাতে হবে।
  • গাছে রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে কপারঅক্সিক্লোরাইড বা কপারহাইড্রক্সাইড জাতীয় ছত্রাকনাশক  (যেমন-কপারব্লু, ব্লিটক্স, জিবাল, হেমক্সি, বাইকপার, চ্যাম্পিয়ন)  ৭ দিন পর পর গাছে স্প্রে করতে হবে।
Scroll to Top