সরিষার ক্লাব রুট বা শিকড় ফোলা রোগ (Clubroot Disease)

ক্লাবরুট রোগ, শিকড় ফোলা রোগ
ক্লাবরুট বা শিকড় ফোলা রোগ
ক্লাবরুট বা শিকড় ফোলা রোগটি একটি প্রোটিস্ট প্যারাসাইট প্লাসমোডিওফোরা ব্রাসিকা (Plasmodiophora brassicae.) দ্বারা সৃষ্ট। প্রোটিস্ট প্যারাসাইট হলো এককোষী অনুবিক্ষনিক পরজীবীর যা কোন প্রানী, উদ্ভিদ, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস এর মধ্যে পড়েনা। ক্লাবরুট রোগের জীবানু মাটিতে বসবাস করে এটি বীজ বাহিত কোন রোগ নয়। প্রায়শই সংক্রামিত চারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর, অনুপযুক্তভাবে উৎপাদিত কম্পোস্ট সার, জমি চাষ বা পরিচর্যা কাজে ব্যবহৃত কৃষি যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ছড়াতে পারে।
পরজীবী গুলো মাটিতে ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

লক্ষণঃ

কপি (ব্রাসিকেসি) পরিবারের সকল ফসল এই পরজীবী সংবেদনশীল। এগুলোর মধ্যে বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, মুলা, সরিষা, শালগম, ক্যানোলা অন্যতম।
পরজীবী গুলো গাছের শিকড়গুলিকে সংক্রমিত করে, যার ফলে সেগুলি ফুলে যায়, আক্রান্ত শিকড় পানি বা পুষ্টি শোষণ করতে পারে না। গাছের বাড় বাড়তি কমে যায়। ফসলে লক্ষণগুলি দেখতে পাওয়ার অনেক আগেই সংক্রমিত হয়।
এই রোগে আক্রান্ত ফসল হালকা রোদে নেতিয়ে পড়ে। পাতাগুলো হলুদ হয়ে যায়।
চারা অবস্থায় আক্রান্ত হলে ফসল মারা যেতে পারে এবং বয়স্ক গাছগুলো উৎপাদন সক্ষমতা হারাবে।
আক্রান্ত গাছের শিকড়গুলো ফুলে গিয়ে বড় আকারে গুটি সৃষ্টি করে।
আক্রান্ত শিকড় গুলো শুরুতে হালকা রংয়ের হয়ে থাকে। অতিরিক্ত আক্রমনে শাখা শিকড়গুলো ছিড়ে যায়।
মাটির আর্দ্রতা বেশি থাকলে এটি খুব দ্রুত সংক্রমন করে। ক্লাবরুট স্পোর অম্লীয় মাটিতে (pH ৬.৫-এর নিচে) গাছে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

প্রতিকারঃ

এই রোগ কে প্রতিরোধ করা ছাড়া প্রতিকারের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই তবে যেসকল জমির pH ৬.৫-এর নিচে রয়েছে সেসকল জমিতে ডলোমাইট চুন প্রয়োগের মাধ্যমে pH এর মান ৭.২ এর মধ্যে রাখলে এই রোগের আক্রমন কম হয়।
যে জমিতে এই রোগের আক্রমন দেখা দিয়েছে সেই জমিতে (গ্রীষ্মকালে যখন তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে বেশি থাকে) চাষ দেওয়ার পর ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে আবৃত করে রাখতে হবে । এতে মাটির তাপমাত্রা অনেক বৃদ্ধি পাবে ফলে এই রোগের প্রবনতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি মাটিতে বসবাসকারী অন্যান্য বালাই যেমন: কৃমি, ছত্রাক, পোকা এবং আগাছার আক্রমন কম হবে।

এছাড়াও রোগ প্রতিরোধে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারেঃ

কোন জমিতে চারা রোপনের জন্য চারা ক্রয়ের পূর্বে ভালো ভাবে যাচাই করে নিতে হবে যে জমিতে চারা উৎপাদন করা হয়েছিল সেখানে এই সমস্যা ছিলো কি না। কারণ উৎপাদিত চারার মাধ্যমেও এটি ছড়িয়ে থাকে।
ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত করা কম্পোস্ট সার জমিতে ব্যবহার করতে হবে। অনুপোযুক্ত ভাবে প্রস্তুতকৃত কম্পোস্ট সার ব্যবহাররে মাধ্যমে এই রোগ ছড়াতে পারে।
আক্রান্ত জমিতে কাজ করার পর কৃষি যন্ত্রপাতিতে লেগে থাকা মাটি অবশ্যই পরিস্কার করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে থালাবাসন পরিস্কার করার লিকুইড সোপ বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
যে জমিতে এই রোগে আক্রমন দেখা গেছে সেই জমিতে ৫ থেকে ৭ বছর কপি (ব্রাসিকেসি) পরিবারের কোন ফসল যেমনঃ বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, মুলা, সরিষা, শালগম চাষাবাদ করা যাবে না।
সবসময় ক্ষেত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে কারণ এই পরজীবী নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য আগাছাকে হোস্ট হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু তারা আগাছার কোন ক্ষতি করতে পারে না।

তথ্য সংগ্রহ ও সম্পাদনায়ঃ
মোঃ আলী রেজা খান
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা
তানোর, রাজশাহী।

বালাইনাশক সহায়িকা অ্যাপটি ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

Scroll to Top