ইমিডাক্লোরপ্রিড (Imidacloprid) একটি নিওনিকোটিনয়েড শ্রেণীর কীটনাশক। ইমিডাক্লোরপ্রিড এফিডস হোয়াইটফ্লাই থ্রিপস, লিফ হপার নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি কীটপতঙ্গের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে তাদের মৃত্যু ঘটায়। নিচে ইমিডাক্লোরপ্রিডের কাজের পদ্ধতি (Mode of Action) এবং এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

ইমিডাক্লোরপ্রিডের মুড অব একশন (Mode of Action):
১. স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব:
- ইমিডাক্লোরপ্রিড কীটপতঙ্গের স্নায়ুতন্ত্রের নিকোটিনিক অ্যাসিটাইলকোলিন রিসেপ্টর (nAChR) এর সাথে বন্ধন তৈরি করে।
- এটি অ্যাসিটাইলকোলিন নামক নিউরোট্রান্সমিটারের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে। অ্যাসিটাইলকোলিন স্নায়ু সংকেত প্রেরণের জন্য দায়ী, কিন্তু ইমিডাক্লোরপ্রিড এই রিসেপ্টরগুলোকে অতিরিক্ত উদ্দীপিত করে।
২. স্নায়ু সংকেতের ব্যাঘাত:
- রিসেপ্টরগুলো অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে গেলে, কীটপতঙ্গের স্নায়ু কোষগুলি অবিরাম সংকেত প্রেরণ করতে থাকে।
- এই অবিরাম সংকেতের ফলে কীটপতঙ্গের স্নায়ুতন্ত্র অচল হয়ে যায়, যা পক্ষাঘাত এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটায়।
৩. সিলেক্টিভ টক্সিসিটি:
-
- ইমিডাক্লোরপ্রিড কীটপতঙ্গের স্নায়ুতন্ত্রের রিসেপ্টরগুলোর সাথে বেশি শক্তিশালীভাবে বন্ধন তৈরি করে, যা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের তুলনায় কীটপতঙ্গের জন্য বেশি বিষাক্ত। তবে এটি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের জন্যও কম মাত্রায় ক্ষতিকর হতে পারে।
যেসকল পোকার ক্ষেত্রে কাজ করেঃ
১. এফিডস
- বৈশিষ্ট্য: এফিডস হল ছোট, নরম শরীরযুক্ত পোকা যা গাছের রস চুষে খায়।
- ক্ষতি: এরা ফসলের পাতা মোচড়ানো, হলুদ হয়ে যাওয়া এবং ভাইরাস সংক্রমণ ছড়ানোর কারণ হয়।
- ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: এফিডসের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে তাদের মৃত্যু ঘটায়।
২. হোয়াইটফ্লাই
- বৈশিষ্ট্য: হোয়াইটফ্লাই হল ছোট, সাদা পোকা যা গাছের নিচের দিকে বসবাস করে।
- ক্ষতি: এরা গাছের রস চুষে খায় এবং হানিওডিউ নামক আঠালো পদার্থ নিঃসরণ করে, যা ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি ঘটায়।
- ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: হোয়াইটফ্লাই এর লার্ভা এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়কে নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. থ্রিপস
- বৈশিষ্ট্য: থ্রিপস হল ছোট, সরু পোকা যা ফুল, ফল এবং পাতায় আক্রমণ করে।
- ক্ষতি: এরা ফসলের উপর দাগ তৈরি করে এবং ভাইরাস ছড়ায়।
- ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: থ্রিপসের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে তাদের মৃত্যু ঘটায়।
৪. লিফহপার
- বৈশিষ্ট্য: লিফহপার হল ছোট, দ্রুত চলাচলকারী পোকা যা গাছের রস চুষে খায়।
- ক্ষতি: এরা ফসলের পাতা হলুদ করে এবং ভাইরাস সংক্রমণ ছড়ায়।
- ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: লিফহপার এর লার্ভা এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়কে নিয়ন্ত্রণ করে।
৫. মিলিবাগস
- বৈশিষ্ট্য: মিলিবাগস হল ছোট, সাদা, মোমের মতো আবরণযুক্ত পোকা।
- ক্ষতি: এরা গাছের রস চুষে খায় এবং হানিওডিউ নিঃসরণ করে।
- ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: মিলিবাগসের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে তাদের মৃত্যু ঘটায়।
৬. সয়েল পেস্টস
- বৈশিষ্ট্য: মাটিতে বসবাসকারী পোকা, যেমন গ্রাব (Grubs), কাটওয়ার্ম (Cutworms), এবং নেমাটোড (Nematodes)।
- ক্ষতি: এরা গাছের শিকড় এবং কান্ড ক্ষতি করে।
- ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: মাটিতে প্রয়োগ করলে এটি মাটিতে বসবাসকারী পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করে।
৭. টার্মাইটস
- বৈশিষ্ট্য: টার্মাইটস হল সামাজিক পোকা যা কাঠ এবং গাছের কাণ্ড খেয়ে ফেলে।
- ক্ষতি: এরা কাঠের কাঠামো এবং ফসলের ক্ষতি করে।
- ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: টার্মাইটসের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে তাদের মৃত্যু ঘটায়।
৮. ফ্লি (Fleas) এবং টিক্স (Ticks)
- বৈশিষ্ট্য: ফ্লি এবং টিক্স হল পরজীবী পোকা যা পশুদের ত্বকে আক্রমণ করে।
- ক্ষতি: এরা পশুদের ত্বকে চুলকানি, অ্যালার্জি এবং রোগ ছড়ায়।
- ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় ফ্লি এবং টিক্স নিয়ন্ত্রণের জন্য।
৯. কোলোরাডো পটেটো বিটল
- বৈশিষ্ট্য: এই পোকা আলু এবং অন্যান্য সোলানেসিয়াস ফসলের পাতা খেয়ে ফেলে।
- ক্ষতি: এরা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।
- ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: লার্ভা এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়কে নিয়ন্ত্রণ করে।
১০. কটন বোলওয়ার্ম
- বৈশিষ্ট্য: এই পোকা তুলা এবং অন্যান্য ফসলের ফুল এবং ফল আক্রমণ করে।
- ক্ষতি: এরা ফসলের উৎপাদন হ্রাস করে।
- ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: লার্ভা এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়কে নিয়ন্ত্রণ করে।
বালাইনাশক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের বালাইনাশক সহায়িকা অ্যাপটি ডাউনলোড করুন


