আলুর ঢলে পড়া রোগ

আলুর ঢলে পড়া রোগটি সাধারণত দুইটি কারণে হতে পারে। একটি হলো ছত্রাক অন্যটি ব্যাকটেরিয়া। ছত্রাক জনিত ঢলেপড়া রোগ সাধারণত Fusarium spp. এবং Verticillium spp. নামক ছত্রাক দ্বারা হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়া জনিত ঢলে পড়া রোগ Ralstonia solanacearum এবং Erwinia carotovora দ্বারা হয়ে থাকে। এই আর্টিকেলে আমরা ব্যাকটেরিয়া জনিত ঢলেপড়া রোগ নিয়ে আলোচনা করবো।

রোগের কারণ

এ রোগটি Ralstonia solanacearum এবং Erwinia carotovora নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট। এটি আলুর অন্যতম বিধ্বংসী রোগ, যা গাছের পানিপ্রবাহের নালীগুলোতে আক্রমণ করে এবং গাছ দ্রুত ঢলে পড়ে।

Ralstonia solanacearum এর লক্ষণ

১। গাছের পাতা প্রথমে ঢলেপড়া অবস্থায় দেখা যায়, বিশেষত দুপুরে।
২। পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং গাছ ক্রমে শুকিয়ে মারা যায়।
৩। আক্রান্ত কাণ্ড কাটলে সেখানে বাদামী রঙের শিরা দেখা যায়।
৪। আক্রান্ত গাছ থেকে সাদা আঠালো তরল বের হয়।
৫। আলুর কন্দে পচন ধরে এবং সেখান থেকেও আঠালো তরল বের হয়।

Erwinia carotovora এর লক্ষণ

  • গাছের কাণ্ড ঢলে পড়ে এবং দ্রুত মারা যায়।
  • কাণ্ডে কালো রঙের দাগ বা পচন দেখা যায়।
  • নরম ও আঠালো পচন হয় এবং এতে দুর্গন্ধ বের হয়।
  • কন্দ নরম হয়ে যায় এবং এতে পচন ধরে।
  • আক্রান্ত কন্দ থেকে দুধের মতো আঠালো পদার্থ বের হয়।
  • কন্দের পচা অংশে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।

যেভাবে ছড়ায়

  • দূষিত বা আক্রান্ত বীজ আলু।
  • অতিরিক্ত সেচ বা জমিতে পানি জমে থাকা।
  • মাটিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া।
  • ফসল কাটার সময় যন্ত্রপাতি বা হাতের মাধ্যমে সংক্রমণ।
  • পানি এবং কৃষি যন্ত্রপাতির মাধ্যমে।
  • বৃষ্টির পানি বা সেচের মাধ্যমে।

প্রতিরোধ ও সমাধান

১। ফসল ব্যবস্থাপনাঃ
  • রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর বীজ আলু ব্যবহার করা।
  • সংবেদনশীল জাতের পরিবর্তে সহনশীল জাত চাষ করা।
  • সঠিক সেচ ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা, অতিরিক্ত পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
২। ফসল চক্র:
  • আলু চাষের আগে এবং পরে ৩-৪ বছর ফসল চক্র (যেমন ধান, গম) বজায় রাখা।
  • টমেটো, বেগুন, মরিচের মতো সংবেদনশীল ফসল এড়িয়ে চলা।
৩। জমি পরিষ্কার রাখা:
  • আগাছা এবং আগের ফসলের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করা।
  • সঠিকভাবে জমি প্রস্তুত করা।
৪। জৈবিক নিয়ন্ত্রণ:

মাটিতে ট্রাইকোডার্মা বা ব্যাসিলাস প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করা।

৫। রাসায়নিক ব্যবহার:
  • স্ট্রেপ্টোমাইসিন সালফেট (বাহা ৭২ এসপি -ইনতেফা)
  • স্ট্রেপ্টোমাইসিন সালফেট + টেট্রাসাইক্লিন হাইড্রোক্লোরাইড (ক্রোসিন এসজি ১০ এসপি -ম্যাকডোনাল্ড)
  • স্ট্রেপ্টোমাইসিন সালফেট + প্রোবেনাজল (ব্যাকটিগার্ড ১৬ ডব্লিউপি -এমিনেন্স)
  • বিসমার্থিওজল (ব্যাকট্রোবান ১০ ডব্লিউপি -হেকেম)
  • বিসমার্থিওজল + কাসুগামাইসিন (কিমিয়া ২১.৫ ডব্লিউপি -মিমপেক্স)
  • ক্লোরো আইসোব্রোমাইন সায়ানুরিক এসিড (ব্যাকটাফ -অটো)
  • ভ্যালিডামাইসিন (নির্ভয় ১০ এসএল -ন্যাশনাল)
  • কপার অক্সিক্লোরাইড (কপার ব্লু ৫০ ডব্লিউপি -স্কয়ার)

রোগ দেখা দিলে উল্লেখিত বালাইনাশকের মধ্যে যেকোন একটি স্প্রে করতে হবে।

রোগ দেখা দিলে করণীয়ঃ
  • আক্রান্ত গাছ সরিয়ে ফেলা এবং মাটিতে পুঁতে ফেলা।
  • জমি ভালোভাবে শুকিয়ে দেওয়া।
  • আপাতত সেচ প্রয়োগ না করা
  • জমিতে প্রতি শতাংশে ৪ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করে থাকলে পরবর্তী ৩ বছর চুন প্রয়োগ না করা কারণ সামান্য অম্লীয় (pH 5.5-6.0) হলে রোগের প্রকোপ কম থাকে।


পরামর্শে-মোঃ আলী রেজা খান
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা
উদ্ভাবক ও ডেভেলপার
বালাইনাশক সহায়িকা

বালাইনাশক সহায়িকা ডাউনলোড

1 thought on “আলুর ঢলে পড়া রোগ”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top