ধানের ব্লাস্ট রোগ: কারণ, উপসর্গ ও প্রতিকার

ব্লাস্ট রোগ ধান উৎপাদনে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এই রোগটি Pyricularia oryzae নামক এক ধরনের ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে এবং ধানের চারা থেকে ধান পাকার সময় পর্যন্ত যে কোনো সময় হতে পারে। এই ছত্রাকটি বীজ, বাতাস, কীটপতঙ্গ এবং আবহাওয়া দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাতে ঠাণ্ডা, দিনে গরম এবং সকালে পাতলা শিশির জমা হলে এই রোগ দ্রুত ছড়াতে পারে। মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা কম হলে, বিশেষ করে বেলে মাটিতে এই রোগের প্রকোপ বেশি থাকে। জমিতে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার এবং পটাশ সারের অভাবও ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়াতে পারে। এছাড়াও, দীর্ঘদিন জমি শুকনো থাকলেও রোগটির আক্রমণ হতে পারে।

ব্লাস্ট রোগ ধান গাছের তিনটি প্রধান অংশে আক্রমণ করে থাকে: পাতা, গিট এবং নেক/শীষ। রোগের ধরন অনুযায়ী এর নামকরণও করা হয়েছে।

ধানের ব্লাস্ট রোগ
ধানের ব্লাস্ট রোগ

লিফ ব্লাস্ট বা পাতা ব্লাস্ট:

পাতার উপরে প্রথমে ছোট ছোট ডিম্বাকৃতির সাদা বা ধূসর দাগ দেখা যায়, যার চারপাশ গা dark ় বাদামী বর্ণের থাকে। পরবর্তীতে এই দাগগুলি বড় হয়ে চোখের আকৃতিতে পরিণত হয়। একাধিক দাগ একত্রিত হয়ে পুরো পাতাকেও আক্রান্ত করতে পারে, ফলে গাছের কিছু অংশ পুড়ে যাওয়ার মতো মনে হয়।

পাতা ব্লাস্ট
পাতা ব্লাস্ট

গিট ব্লাস্ট:

গিঁটে কালো দাগ দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে বড় হয়ে গিঁটটিকে পচিয়ে ফেলে। এর ফলে গাছ গিঁট বরাবর ভেঙে পড়ে।

গিট ব্লাস্ট
গিট ব্লাস্ট

নেক/শীষ ব্লাস্ট:

শীষের গোড়া অথবা শাখা প্রশাখার গোড়ায় কালো দাগ দেখা দেয়, যা পচে গিয়ে শীষের আকার নষ্ট করে দেয়। এই অবস্থায় ধান চিটা হয়ে যায় এবং শীষ বা শাখাগুলি ভেঙে পড়ে।

শিষ ব্লাস্ট
শিষ ব্লাস্ট

প্রতিকার:

  • রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করা।
  • সুষম মাত্রায় সব ধরনের সার ব্যবহার করতে হবে।
  • আক্রান্ত জমির খড়কুটা পুড়িয়ে ফেলতে হবে এবং ছাই জমিতে মিশিয়ে দিতে হবে।
  • জমিতে সব সময় পানি রাখতে হবে।

বালাইনাশক ব্যবহারঃ

নাটিভো, ট্রুপার, বীর, অপোনেন্ট, ম্যাকভো, দিফা, সানজল প্লাস ইত্যাদি

 

 

বালাইনাশক সহায়িকা ডাউনলোড করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top