
ল্যাম্বডা সাইহ্যালোথ্রিন হলো একটি পাইরীথ্রয়েড জাতীয় কীটনাশক, যা স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে এবং কীটপতঙ্গকে পঙ্গু করে মারতে সাহায্য করে। এর প্রধান Mode of Action নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
স্নায়ুতন্ত্রে সোডিয়াম চ্যানেল মডুলেশন:
ল্যাম্বডা সাইহ্যালোথ্রিন কীটপতঙ্গের স্নায়ু কোষের সোডিয়াম চ্যানেল কে লক্ষ্য করে কাজ করে। এটি Voltage-Gated Sodium Channel (VGSC)-এর কার্যকারিতাকে পরিবর্তন করে, ফলে স্নায়ু কোষের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক সংকেত পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়।
- স্বাভাবিক অবস্থায় সোডিয়াম চ্যানেল খুলে এবং দ্রুত বন্ধ হয়, যাতে সংকেত সঠিকভাবে প্রবাহিত হয়।
- ল্যাম্বডা সাইহ্যালোথ্রিন এই চ্যানেলকে দীর্ঘ সময় খোলা রাখে, যার ফলে অতিরিক্ত নিউরোনাল এক্সসাইটেশন হয়।
- ফলে কীটপতঙ্গের দেহে অতিরিক্ত নার্ভ ইমপালস পাঠানো হয়, যা পেশির অনিয়ন্ত্রিত সংকোচন ঘটায় এবং পরবর্তীতে পঙ্গুত্ব ও মৃত্যু ডেকে আনে।
স্নায়ুতে অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি:
ল্যাম্বডা সাইহ্যালোথ্রিন এর কারণে কীটপতঙ্গের স্নায়ুতন্ত্রে বারবার সংকেত প্রেরণ হয়, যা Hyperexcitation সৃষ্টি করে। এটি কীটপতঙ্গের মধ্যে বারবার ঝাঁকুনি (Twitching), খিঁচুনি (Convulsions), এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া ঘটায়।
পঙ্গুত্ব ও মৃত্যু:
- অতিরিক্ত উত্তেজনার ফলে কীটপতঙ্গ প্রথমে বিচলিত ও অস্থির হয়ে পড়ে।
- পরে পঙ্গুত্ব (Paralysis) দেখা দেয়, কারণ স্নায়ু কোষগুলি সংকেত প্রেরণ করতে ব্যর্থ হয়।
- অবশেষে কীটপতঙ্গ খেতে, চলতে বা শ্বাস নিতে অক্ষম হয়ে মারা যায়।
দ্রুত কার্যকারিতা ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব:
ল্যাম্বডা সাইহ্যালোথ্রিন দ্রুত কাজ শুরু করে এবং বেশ কিছুদিন পর্যন্ত কার্যকারিতা বজায় রাখে। এটি কন্টাক্ট (স্পর্শ) ও ইনজেস্টিভ (খেয়ে নেওয়া) উভয় উপায়ে কাজ করতে পারে, ফলে এটি বেশ কার্যকর কীটনাশক।
এক নজরে কার্যপ্রনালীঃ
| ক্রমিক নং |
কাজের ধরণ |
বিস্তারিত ব্যাখ্যা |
| ১ |
স্নায়ু কোষের সোডিয়াম চ্যানেলে প্রভাব ফেলে |
কীটপতঙ্গের স্নায়ু কোষে Voltage-Gated Sodium Channel (VGSC) দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখে, ফলে অতিরিক্ত স্নায়ুবিক সংকেত প্রবাহিত হয়। |
| ২ |
Hyperexcitation সৃষ্টি করে |
স্নায়ুতে অতিরিক্ত সংকেত পাঠানো হয়, যা ঝাঁকুনি (Twitching), খিঁচুনি (Convulsions) ও অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া ঘটায়। |
| ৩ |
পেশির অনিয়ন্ত্রিত সংকোচন ঘটায় |
কীটপতঙ্গের পেশিগুলো বারবার সংকুচিত হয়, ফলে এটি অস্থির হয়ে পড়ে ও নিয়ন্ত্রণ হারায়। |
| ৪ |
পঙ্গুত্ব (Paralysis) সৃষ্টি করে |
স্নায়ুর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে কীটপতঙ্গ খেতে, চলতে বা প্রতিরক্ষা নিতে অক্ষম হয়। |
| ৫ |
মৃত্যু ঘটায় |
অবশেষে কীটপতঙ্গ পঙ্গু হয়ে খাদ্যগ্রহণ বন্ধ করে এবং ধীরে ধীরে মারা যায়। |
| ৬ |
দ্রুত ও দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা বজায় রাখে |
এটি স্পর্শ (Contact) ও গ্রহণ (Ingestion) উভয় উপায়ে কাজ করে এবং দীর্ঘ সময় কীটপতঙ্গ দমন করতে সক্ষম। |
কীভাবে কাজ করে?
| কার্যকারিতা পদ্ধতি |
বর্ণনা |
| ১. স্পর্শক্রিয় (Contact Action) |
কীটপতঙ্গের শরীরে সরাসরি লেগে গেলে এটি কাজ করে। কীটের বহিঃকোষের মাধ্যমে শোষিত হয়ে স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে। |
| ২. পাকস্থলি (Ingestion Action) |
পোকা যখন কীটনাশকযুক্ত পাতা বা গাছের অংশ খায়, তখন এটি দেহে প্রবেশ করে এবং কার্যকর হয়। |
| ৩. ফিউমিগ্যান্ট (Fumigant Action) |
কিছু মাত্রায় এটি বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসের মাধ্যমে কীটপতঙ্গের শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে। |
| ৪. অবশিষ্ট ক্রিয়া (Residual Action) |
এটি পাতার উপর দীর্ঘসময় অবশিষ্ট থাকে, ফলে পরবর্তী সময়ে আসা কীটপতঙ্গও আক্রান্ত হয়। |
| ৫. সিস্টেমিক নয় (Non-Systemic) |
এটি উদ্ভিদের শিরায় প্রবেশ করে সিস্টেমিকভাবে চলাচল করে না, শুধুমাত্র স্পর্শ বা গ্রহণের মাধ্যমে কীটনাশক হিসেবে কাজ করে। |
Post Views: 5,114