ক্লোরপাইরিফস এর কাজ (Mode of Action)

ক্লোরপাইরিফস একটি অর্গানোফসফরাস জাতীয় কীটনাশক, যা নিউরোটক্সিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। এর প্রধান মুড অব অ্যাকশান হলো অ্যাসিটাইলকোলিন এস্টেরেজ এনজাইম ইনহিবিশন। নিচে এর বিস্তারিত কার্যপ্রক্রিয়া দেওয়া হলো—

অ্যাসিটাইলকোলিন এস্টেরেজ ইনহিবিশন (AChE Inhibition)

  • স্নায়ুতন্ত্রে (Nervous System) নিউরোট্রান্সমিশন বিঘ্ন ঘটায়
  • পোকামাকড় ও অন্যান্য প্রাণীর স্নায়ু কোষে অ্যাসিটাইলকোলিন (Acetylcholine – ACh) নামক নিউরোট্রান্সমিটার সংকেত পাঠায়
  • ক্লোরপাইরিফস অ্যাসিটাইলকোলিন এস্টেরেজ এনজাইমকে ব্লক করে, যা স্বাভাবিকভাবে অ্যাসিটাইলকোলিনকে ভেঙে নিষ্ক্রিয় করে
  • ফলে অ্যাসিটাইলকোলিন মাত্রাতিরিক্তভাবে জমা হয়, যা নিউরোনের অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করে

অতিরিক্ত স্নায়ু উত্তেজনা ও প্যারালাইসিস

  • অ্যাসিটাইলকোলিন জমে থাকার কারণে নিউরোন ও মাংসপেশি ক্রমাগত সংকুচিত হতে থাকে
  • এটি পোকামাকড়ের দেহে খিঁচুনি (Convulsion), পক্ষাঘাত (Paralysis) ও মৃত্যু ঘটায়
  • অধিক মাত্রায় গ্রহণ করলে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও বিষক্রিয়া (Toxicity) তৈরি করতে পারে

কার্যকারিতা

প্রবেশপথ কীভাবে কাজ করে? উদাহরণ
কন্ট্যাক্ট (Contact) সরাসরি শরীরে লাগলে প্রবেশ করে থ্রিপস, জ্যাসিড
ইনজেস্টন (Ingestion) গাছ খাওয়ার মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে মাজরা পোকা, লেদা পোকা
ইনহেলেশন (Inhalation) শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে গুদামজাত পোকা, অ্যাফিড, হোয়াইটফ্লাই

এই তিনটি উপায়ে ক্লোরপাইরিফস কাজ করে, যা এটিকে একটি শক্তিশালী কীটনাশক হিসেবে কার্যকরী করে তোলে। তবে এটি ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, কারণ এটি মানুষ ও পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

প্রধান টার্গেট কীটপতঙ্গঃ

  • লেদা পোকা (Spodoptera)
  • জ্যাসিড (Jassids)
  • থ্রিপস (Thrips)
  • মাজরা পোকা (Stem borers)
  • পাতামোড়ানো পোকা (Leaf folders)

ক্লোরপাইরিফসের অবশিষ্টকাল (Residual Period)

ক্লোরপাইরিফসের অবশিষ্টকাল নির্ভর করে—

  • ✅ প্রয়োগের মাত্রা ও ফর্মুলেশন (EC, GR, WP ইত্যাদি)
  • ✅ পরিবেশগত পরিস্থিতি (তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, মাটি বা গাছের ধরন)
  • ✅ ফসলের ধরন ও বৃদ্ধির পর্যায়

🟢 সাধারণত অবশিষ্টকাল:

  • মাটি ও গাছের উপর: ১-২ সপ্তাহ
  • গুদামজাত পণ্যে: ১-৩ মাস পর্যন্ত
  • জলীয় পরিবেশে: ১০-১৫ দিন
  • মানবদেহে নিরাপদ মাত্রায় ক্ষয়: ৭-২১ দিন

🔵 ফসলভেদে অবশিষ্টকাল (PHI – Pre-Harvest Interval):

ফসলের ধরন অবশিষ্টকাল (দিন)
ধান ১৫-২১ দিন
সবজি ৭-১০ দিন
ফলমূল ১০-১৪ দিন
আলু ১৪-২১ দিন
গম/ভুট্টা ২০-৩০ দিন

সতর্কতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  • এটি মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের জন্য বিষাক্ত, তাই ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত
  • ব্যবহারের সময় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যেমন মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা

ক্লোরপাইরিফসের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার পরিবেশ ও উপকারী পোকাদের ক্ষতি করতে পারে, তাই এটি সঠিক মাত্রায় ও সঠিক পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা জরুরি।

দেশের বাজারে প্রাপ্ত কয়েকটি ক্লোরপাইরিফস জাতীয় কীটনাশকঃ

  • ডারসবান ২০ ইসি
  • সাইরেন ৫০ ডব্লিউপি
  • ক্লোরসিড ২০ ইসি
  • সাইরেন ২০ ইসি
  • পাইক্লোরেক্স ২০ ইসি
  • কিলফস ২০ ইসি
  • ট্রাইসেল ২০ ইসি
  • মর্টার ৪৮ ইসি
  • চিতা ৪৮ ইসি
  • ভিটাবান ৪৮ ইসি
  • ক্লোরোসেল ৪৮ ইসি
  • গোলা ৪৮ ইসি

বালাইনাশক সহায়িকা অ্যাপ ব্যবহার করুন, সঠিক বালাইনাশক যাচাই করুণ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top